১ অক্টোবর ২০২১ (বিবিনিউজ ):সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবক খুন হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার জামগড়া পলমল গার্মেন্টসসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে নিহত ব্যক্তির খালা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত ওই যুবকের নাম মো. রমজান মিয়া (১৯)। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার দক্ষিণ মির্জানগরের মো. চান মিয়ার ছেলে। রমজান জামগড়ার শিমুলতলা এলাকায় একটি আসবাবের দোকানে কাজ করতেন।
আশুলিয়া থানা-পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে রমজান মিয়া কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রমজানের খালা কুলসুম বেগমের সঙ্গে রমজানের মুঠোফোনে কথা হলে রমজান বলেন, কিছুক্ষণ পরই তিনি বাসায় চলে আসবেন।
এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রমজানের খালাতো ভাই মো. শিপন ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন রমজানকে খুন করা হয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এদিকে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম ঘটনাস্থলে যান। তিনি রমজানকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির খালাতো ভাই মো. শিপন বলেন, তিনি তাঁর ছোট ভাই ও রমজান একই সঙ্গে জামগড়া এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। গতকাল রাতে কাজ শেষে রমজান তাঁর সহকর্মী রাশেদ, ইয়ামিন ও সাগরের সঙ্গে বের হয়েছিলেন। ইয়ামিন তাঁদের জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনাস্থলের একটু আগেই রাশেদ ও ইয়ামিন দুজন অন্যদিকে চলে যান। ওখান থেকে রমজান সাগরের সঙ্গে আসছিলেন। তবে সাগর জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের ঠিক আগেই তিনিও অন্যদিকে চলে গিয়েছিলেন এবং রমজান একাই ফিরছিলেন।
শিপন বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশে আমি একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা দেখেছি। এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের হয়ে যাবে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিরুল বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত ব্যক্তির কাঁধ, পেট ও পিঠের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
